দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ‘নিঃশর্ত ও সম্পূর্ণ’ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) আশুরা উপলক্ষে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে কাসেম বলেন, ‘লেবাননের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও দখলে রাখার অধিকার ইসরায়েলের নেই। তাদের কোনো শর্ত ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে সরে যেতে হবে।’
তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আনুষ্ঠানিক পরাজয়ের ঘোষণা’ বলেও মন্তব্য করেন।
যদিও গত সপ্তাহে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর লেবাননে ইসরায়েলি হামলার মাত্রা কিছুটা কমেছে, তবে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। শুক্রবার সকালে নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা শহরে ইসরায়েলের বিমান হামলা হয়। এর আগে মায়ফাদুন শহরে আরেক হামলায় দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিন দক্ষিণ লেবাননের মানসৌরি শহরের ওপর থেকে লিফলেটও ফেলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির পর এটিই এ ধরনের প্রথম নির্দেশ।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনাদের কাছে অস্ত্র বহন করছিলেন—এমন সাতজন হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া বেইত ইয়াহুন এলাকায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই কর্মকর্তাসহ চার ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা।
এদিকে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান পঞ্চম দফা আলোচনার মেয়াদ আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যার আওতায় ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের কিছু দখলকৃত এলাকা লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে পারে। তবে লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রত্যাহার ঘটেনি।
ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিরোধিতা করেছে।
নাইম কাসেম বলেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো স্বাভাবিক সম্পর্ক নয়, বৈরিতার অবসান নয় এবং ইসরায়েলের জন্য কোনো সুবিধাও নয়।’ তিনি লেবাননের সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ অনুসরণ না করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে বছরের শেষ দিকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইউনিফিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স ও ইতালি। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই উদ্যোগকে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/